ছবির ক্যাপশন: প্রতিকী
তোফায়েল হোসেন মজুমদার:
কুমিল্লায় ৮ বছরের শিশুকে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেছেন এক দোকানী। ওই দোকানীর নাম মোঃ জিয়াউল হক ওরফে ছোট হুজুর। সে নাঙ্গলকোট উপজেলার পাটোয়ার গ্রামের ক্বারী বাড়ীর আবদুল মান্নানের ছেলে ও স্থানীয় ওমরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী। হয়রানির শিকার ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় পাটোয়ার ছাদেকীয়া বালিকা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণি ছাত্রী।
রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের ওমরগঞ্জ বাজারে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা শিশুটির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক জিয়াউল হককে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে ইউপি সদস্য মোঃ লিটনের সহায়তায় পালিয়ে যায় লম্পট জিয়া।
রোববার (২৪ মে) রাত ১০টায় এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছে নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওসি আরো বলেন,তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশের ফোর্স পাঠিয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, ওমরগঞ্জ বাজারের পাশে বাড়ী হওয়ায় রোববার সন্ধ্যা কিছু খরচ ক্রয় করতে বাড়ী থেকে বাজারে আসে শিশুটি। এরমধ্যে মুরগী দোকানদার জিয়াউল হক তাকে দেখে তার মুরগী ও ডিম দোকানে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর বৃষ্টি শুরু হলে জিয়াউল হক শিশুটির স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন হয়রানি করে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করলে তাকে ছেড়ে দেয় লম্পট জিয়া। পরে শিশুটি দৌঁড়ে বাড়ী যাওয়ার সময় বাজারে অন্যান্য ব্যবসায়ী ও কয়েকজন যুবক সন্দেহ হলে শিশুটিকে জিজ্ঞেস করে, এতে শিশুটি ঘটনার বিবরণ দিলে তাৎক্ষণিক কয়েকজন যুবক জিয়াউল হককে আটক করে মারধর করে। এ সময় ঘটনারস্থলে উপস্থিত থাকা ইউপি সদস্য উপস্থিত লোকজনদের জিয়ার বিচার করার আশ্বাস দিয়ে তার মুদি দোকানে নিয়ে গিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। এরপর থেকে লম্পট জিয়াউল হক পলাতক রয়েছে।
এবিষয়ে ওমরগঞ্জ বাজারের অন্তত ৫জন ব্যবসায়ী বলেন, বৃষ্টির সময় শিশুটির চিৎকার শুনতে পায় কিছু যুবক। পরে ভিকটিম বাড়ী যাওয়ার সময় যুবকরা শিশুটিকে জিজ্ঞেস করলে সে ঘটনাটি খুলে বলে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী জিয়াউল হকের বিচার দাবী করছি। তাছাড়া ওই জিয়া এর আগেও একই রকম বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, জিয়াউল হক বিকৃত যৌনাচারী ও খারাপ মানসিকতার লোক। সে আমার বিদ্যালয়ের আন্তত ৬ থেকে ৭ জন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছেন। বিকৃত যৌনাচারের কারনে পারিবারেও নিয়মিত অশান্তি হয়।
এ বিষয়ে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, শিশুটির চাচা মোঃ ইউছুফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হয়নি।
এদিকে, অভিযুক্ত জিয়াউল হক পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়রা তার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেছে।